অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার!

অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার!

মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল যা আরবিতে জয়তুন নামে পরিচিত। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত। গ্রীক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণ এই জলপাইয়ের তেলের মধ্য রয়েছে। অলিভ অয়েল এর উপকারিতা বহুদিন ধরেই বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত। ত্বক ও চুলের ব্যবহার ছাড়াও দৈনন্দিন নানা কাজেও অলিভ অয়েল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন জেনে নেয়া যাক অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার।
চিত্রঃঅলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার
অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার
শিশুদের ত্বকের যত্নেঃ
জলপাই তেল ত্বকের যত্নে ভালো কাজ করে। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ। শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ ওয়েল মাখিয়ে দিন। এছাড়া যাঁদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নির্দ্বিধায় এ তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। অলিভ অয়েল অতিরিক্ত শুষ্ক ও ছোপ ছোপ ত্বক কোমল ও মসৃণ করে।

বলিরেখা দূর করতেঃ
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কপালে, চোখের পাশে ও নিচে চামড়ায় হালকা ভাঁজ দেখা দেয়। এই বলিরেখা দূর করতে ২ চামচ অলিভ অয়েলের সাথে সামান্য এলোভেরা অয়েল মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে তা চলে যাবে।

ত্বকে ময়েশ্চারাইজ আনতেঃ
হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরে তুলাতে সামান্য অলিভ অয়েল লাগিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ১০-১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে তা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এবার শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন। গোসল করার পর সামান্য পানির সাথে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে সারা শরীরে ম্যাসেজ করলে কিন্তু দারুণ ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

চুলের সৌন্দর্যেঃ
চুলের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। একটি ডিম ও ২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ভালমতো ফেটিয়ে নিন। তারপর পেস্টটি আপনার চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

হেয়ার কন্ডিশনারঃ
চুলের কন্ডিশনার হিসাবে অলিভ অয়েল দারুণ কাজে দেয়। চুলে মেখে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন। চুলকে স্থির করে রাখতে চাইলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন চুলে। মনে হবে যেন জেল দিয়েছেন।

মেকআপের সময়ঃ
শুষ্ক ত্বকে মেকআপের সময় ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে ১/২ ফোঁটা অলিভ ওয়েল মুখে মেখে নিন। এতে মেকআপ বসবে ভালো এবং মেকআপের পর ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।

মেকআপ পরিষ্কার করতে(রিমুভার হিসেবে)ঃ
মুখ থেকে মেকআপ তুলতে রীতিমতো ত্বকের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু অলিভ অয়েল দিয়ে খুব সহজেই মুখের সমস্ত মেকআপ তুলে নেওয়া যায়। মেকআপ তোলার সময় কটন বল নিয়ে তাতে সামান্য অলিভ অয়েল নিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন, দেখবেন সমস্ত মেকআপ উঠে যাবে।

স্ক্রাবার হিসাবেঃ
ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে তা মুখ পরিষ্কারের স্কার্ব হিসাবে ব্যবহার করুন।

লিপজেলের কাজেঃ
লিপবাম, ভেসলিন এর বদলে ঠোঁটে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করা যায়। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার করে তারপর অলিভ ওয়েল লাগান। লিপস্টিক লাগানোর আগেও সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে নিলে ঠোঁট নরম থাকবে।
মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিন। এটি পরে লিপজেলের কাজ করবে।

ঠোঁটের স্ক্রাবার হিসেবেঃ
ঠোঁটে মরা চামড়া জমে কালচে দেখায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অলিভ অয়েল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে ঘষুন। দূর হবে মরা চামড়া।

স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেঃ
ডার্মাটোলজিস্টগণ ত্বকের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক-এ অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ সব ফাটাদাগে নিয়মিত ম্যাসাজ করলে দাগগুলো ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়। শুরু থেকেই রাতে শোবার আগে ও গোসলের পর পেট ওথাই-এ অলিভ অয়েল ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যা অ্যান্টি স্ট্রেচ মার্ক ক্রিম হিসেবে কাজ করবে।

সান প্রোটেকশনঃ
অভিল অয়েলে ভিটামিন এ এবং ই আছে সেই সঙ্গে ৩ রকমের antioxidants আছে, যা আপানাকে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। তাই যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দিয়ে বের হন তবে সান্ টান থেকে অনেকটাই মুক্তি লাভ করবেন।

ব্রণ প্রতিরোধকঃ
শুনে হয়ত অবাক হবেন ব্রণের চিকিৎসায় তেলের ব্যবহার। কিন্তু অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ করুন। আপনি অবশ্যই পরিবর্তন দেখতে পারবেন। লবণ exfoliation করে pore পরিষ্কার করে আর অলিভ অয়েল মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

পায়ের যত্নেঃ
পায়ের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার অতুলনীয়। পায়ের যত্নে ১ চামচ লবণ নিয়ে তাতে পরিমাণমতো অলিভ ওয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে পায়ে ম্যাসাজ করুন। ভালো ফল পাবেন।

নখ ভাঙ্গা রোধেঃ
যাদের নখ বারবার ভেঙে যায় তারা নখের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েল কুসুম গরম করে নখ ডুবিয়ে রাখুন। সপ্তাহে একবার এটি করলে নখ শক্ত হবে।

পা ফাটা সমস্যার সমাধানঃ
পায়ের দুরবস্থার কারণে কারও সামনে পা বের করতে বিব্রত হচ্ছেন? রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন, তারপর মোজা পরে ঘুমান। সকালে নরম তুলতুলে পায়ে পছন্দের স্যান্ডেল গলিয়ে চলে যান গন্তব্যস্থলে।

অলিভ অয়েল বাথঃ
শীতকালে যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে তাদের জন্য খুবই কার্যকরী অলিভ অয়েল বাথ। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। বডি লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। গোসলের পর অনুভব করুন তুলতুলে নরম, সিল্কি ত্বকের স্পর্শ অথবা আপনি যদি গোসলের আগে অভিল অয়েল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করে নেন তাহলেও সেই একই ফলাফল পাবেন।

ডার্ক সার্কেল দূর করতেঃ
চোখের নিচে কালি পড়লে রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে দূর হবে চোখের নিচের কালো দাগ।

ওজন কমাতেঃ
শরীরের ওজন কমাতে অলিভ অয়েল খেতে পারেন। এছাড়া সকালে নাস্তার আগে ২ চামচ অলিভ ওয়েল খেয়ে নিন, এতে হজম শক্তি বাড়বে।

কানের সমস্যায় জলপাই তেলঃ
যাদের কানের সমস্যায় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল বিশেষ উপকার করে থাকে। কানের মধ্যে চুলকানি এ গন্ধ হওয়া এমন বেশ কিছু নর্মাল সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। কটন বার অলিভ ওয়েলে ভিজিয়ে খুব সাবধানে কানের মধ্যে দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে কোন মতেই যেনো কানের মধ্যে কাঠির চাপ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে কানের চুলকানি কমে আসবে। তবে কানে বড় কোন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোলেস্টরেল কমাতেঃ
কোলেস্টরেল কমাতেও জলপাই তেল বিশেষ উপকার করে থাকে। আর তাই যাদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধেঃ
পেট পরিষ্কার না থাকার কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে ব্রণ দেখা দেয়। তাই ব্রণের সমসসা সমাধানের সাথে সাথে পেটের সমস্যাও সমাধান করতে হবে আমাদের। প্রতিদিন সকালে কিছু খাওয়ার আগে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খাবেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার সমস্যার সমাধান হবে।

শেভ করার কাজেঃ
শেভ করতে গেলেন আর দেখলেন শেভিং ক্রিম শেষ তখন কি হবে? শেভিং ক্রিমের বদলে ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল। মসৃণ শেভ হবে এবং ত্বকও রুক্ষ হবে না।

মরিচা রোধেঃ
লোহার যন্ত্রপাতি বা গ্রিলের মরিচা প্রতিরোধ করতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।

স্টেইনলেস স্টিল চকচকে করতেঃ
স্টেইনলেস স্টিলের থালা বাসন চকচকে করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। স্টেইনলেস স্টিলের যেই অংশে দাগ পরে গিয়েছে সেই স্থানে কিছুক্ষন অলিভ অয়েল ঘষে নিলে অনায়াসেই দাগ উঠে যায়।

আসবাবপত্র পলিশ করতেঃ
এক কাপ অলিভ ওয়েলের সঙ্গে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। আসবাবপত্র পরিষ্কারের কাজে একে ব্যবহার করুন।

নাক ডাকা বন্ধ করতেঃ
অলিভ অয়েল নাক ডাকা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক চুমুক অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। এটি আপনার গলার পেশীকে পিচ্ছিল করে থাকে এবং নাক ডাকা বন্ধ করে দেয়।

পোষা প্রাণীর যত্নে ব্যবহারেঃ
পোষা প্রাণীর গোসলের পানিতে ১/৪ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। তাহলে পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বক ভালো থাকবে।

No comments:

Post a Comment

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি!

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! শীত, গরম বা বর্ষাকালেও খুশকির যন্ত্রনা যেন মেটে না। পার্লারের আহাম...

Our Popular Posts