জেনে নিন গোলমরিচের গুণাগুণ এবং ব্যবহার
গোলমরিচ (Black pepper) যা আমরা মোটামুটি সবাই চিনি। গোলমরিচের গুঁড়া পশ্চিমা (ইউরোপীয়) খাদ্যে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয় প্রাচীন কাল থেকে। তবে ভারত বর্ষের মসলাধিক্য রান্নায় এটির ব্যবহার প্রচুর। এছাড়া ঔষধী গুণাগুণের জন্যেও এটি সমাদৃত। গোলমরিচে পাইপারিন (piperine) নামের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা থেকে এর ঝাঁঝালো স্বাদটি এসেছে। এর পাশাপাশি এই মশলাটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং অন্যান্য উপাদানে ভরপুর।![]() |
| জেনে নিন গোলমরিচের গুণাগুণ এবং ব্যবহার |
অনেকেই রান্নায় গোলমরিচ গুঁড়া ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, রান্নায় গোটা গোলমরিচ ব্যবহার করাই ভালো। রান্নায় গোলমরিচ ব্যবহার করা উচিত রান্নার একদম শেষে। নাহলে এটি রান্নায় ব্যবহৃত তেলকে বাস্পে পরিণত করে এবং রান্নার আসল স্বাদটাই নষ্ট করে ফেলে। আর রান্নার শেষ মুহূর্তে একটু খানি টাটকা গোলমরিচের গুঁড়ো রান্নার স্বাদ বাড়িয়ে তোলে অনেকখানি।
গোলমরিচের ব্যবহার এবং গুণাগুণঃ
অনেকেই গোলমরিচ পছন্দ করেন না। কিন্তু এর অনেক ঔষধি গুণ আছে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটি যোগ করতে পারেন। গোলমরিচ আপনার শরীর ফিট রাখতে বেশ কার্যকর।১। কফের চিকিৎসায় গোলমরিচঃ
একটি বাটিতে কিছু গোলমরিচ, জিরা ও বিট লবণ মিশিয়ে মুখে রাখুন। এটি খুশখুশে কাশি ও কফের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর।
২। জ্বর থেকে পরিত্রাণ পেতেঃ
একটি বাটিতে কিছু গোলমরিচ ও ১ চা চামচ চিনি নিন। সঙ্গে পানি যোগ করে খান। মিশ্রণটি আপনার জ্বর দূর করবে।
৩। আপনি কি ঠাণ্ডায় ভুগছেন? ঃ
ঘরে বসেই দূর করুন ঠাণ্ডার সমস্যা। এক গ্লাস দুধের সঙ্গে কিছু গোলমরিচ ও জাফরান মিশিয়ে খান। এটি ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ঠাণ্ডাজনিত সব সমস্যা দূর করে।
৪। দাঁতের চিকিৎসায় গোলমরিচঃ
সকল ধরনের দাঁতের চিকিৎসায় গোলমরিচ বেশ কার্যকর। গোলমরিচ গুঁড়া করে দাঁতের মাড়ির ওপর কিছুক্ষণ রাখুন। এটি দাঁতের সমস্যা এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দূর করবে।
৫। খাওয়ার রুচি বাড়াতেঃ
যদি বলি গোলমরিচ গুঁড়া আপনার খাওয়ার রুচি বাড়াবে। তবে নিশ্চয়ই অবাক হবেন, তাই তো। তবে বলছি এক কাপ ঘন দুধের সঙ্গে কয়েকটা গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে এটি দুবার করে খাবেন। এটি আপনার খাওয়ার রুচি বাড়াবে।
৬। চোখের জন্য ভালো গোলমরিচঃ
এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চা-চামচ গোলমরিচ গুঁড়া ও এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে এটি খাবেন। এতে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো হবে।
৭। বদহজম সমস্যা দূর করতেঃ
বদহজমের সমস্যা হলে কয়েকটা গোলমরিচ চিবিয়ে অথবা পানি দিয়ে খেয়ে নিন। দেখবেন বদহজম সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
৮। ওজন হ্রাস করেঃ
যে কোনো ধরনের গরম মশলা ওজন হ্রাস করে। যদি অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করতে চান, তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গরম মশলা যোগ করুন।
৯। ঠাণ্ডা এলার্জি দূর করতেঃ
একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে কয়েকটা গোলমরিচ, সাদা গোলমরিচ, সামান্য চিনি ও আদা মেশান। গরম গরম খেলে ঠাণ্ডা সমস্যা দূর হবে। যদি না হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১০। গোলমরিচ ক্যান্সার প্রতিরোধকঃ
গোলমরিচে রয়েছে এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-সি। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ক্যারটিন যা শরীরের টিসুতে টিউমার তৈরিতে বাধা প্রদান করে। প্রতিদিনের খাবারের রান্নায় এক চা চামচ গুলমরিচের গুড়া ব্যবহার করলে প্রতিদিনের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি যা ত্বকের ক্যান্সার, ক্লোন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
১১। ধূমপান ছাড়তেঃ
ধূমপান ছাড়তে চান তাহলে জেনে নিন গোলমরিচের এই ব্যবহারটি। একটি তুলায় গোলমরিচের তেল মাখিয়ে নিন। যখন আপনার ধূমপান করতে প্রচন্ড ইচ্ছা করবে তখন গোলমরিচের তেল ভেজানো তুলার ঘ্রাণ নিন। দেখবেন ধূমপানের ইচ্ছা একদম চলে গেছে।
১২। পেশীর ব্যথা কমাতেঃ
পেশীর ব্যথা কমাতে গোল মরিচ তেলের ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে সাথে সাথে মাংশ পেশী শক্ত করতে সাহায্য করে থাকে। ২ টেবিল চামচ গোল মরিচের তেলের সাথে ৪ চা চামচ রোজমেরী তেল বা আদার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। মাংশ পেশির যেখানে ব্যথা করবে সেখানে এই তেল ব্যবহার করুন। ব্যথা কমে যাবে।

No comments:
Post a Comment