জানেন কি, গোলমরিচের গুনাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কি কি?

জানেন কি, গোলমরিচের গুনাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো কি কি?

গোলমরিচ (Black pepper) এটি হল গাছের ফল। যা আমরা মোটামুটি সবাই চিনি। গোলমরিচের গুঁড়া পশ্চিমা (ইউরোপীয়) খাদ্যে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয় প্রাচীন কাল থেকে। তবে ভারত বর্ষের মসলাধিক্য রান্নায় এটির ব্যবহার প্রচুর। এছাড়া ঔষধী গুণাগুণের জন্যেও এটি সমাদৃত। গোলমরিচে পাইপারিন (piperine) নামের একটি বিশেষ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা থেকে এর ঝাঁঝালো স্বাদটি এসেছে। খাবারের স্বাদ বাড়াতে গোল মরিচের তুলনা নেই। অমলেট, পাস্তা, সবজি ইত্যাদি খাবারের সঙ্গে গোল মরিচের ব্যবহার জনপ্রিয়। কেউ কেউ আবার ব্ল্যাক কফিতে সামান্য গোল মরিচ গুড়া মিশিয়ে দিন শুরু করেন। কারণ, স্বাদ ছাড়াও এর রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ। কারণ এটির মত গুনাগুণ নাকি আর কোনও মশলায় এত নেই। এটি ডায়রিয়া, হার্টের অসুখ থেকে শুরু করে দাঁতের অসুখ অ্যানিমিয়া এমনকি সর্দি কাশিতেও বেশ কাজ দেয়।

চিত্রঃ গোলমরিচের গুনাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো
গোলমরিচের গুনাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো

গোলমরিচ খুব সামান্য একটি জিনিস হলেও এর গুণাগুণ অপিরিসীম। তীক্ষ্ণ ঝাঁঝালো স্বাদের গোলমরিচ মশলা হিসেবে বেশ পরিচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাটকা গোলমরিচ এর গুঁড়োই ব্যবহৃত হয়। রান্নার শেষ মুহূর্তে একটু খানি টাটকা গোলমরিচের গুঁড়ো রান্নার স্বাদ বাড়িয়ে তোলে অনেকখানি। কিন্তু এই গোলমরিচের উপকারিতা অন্যান্য মশলা থেকে অনেক বেশি। গোলমরিচের উপকারিতার জন্য একে ‘King of Spice’ বা মশলার রাজা বলা হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক গোলমরিচের গুণাগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

➤ এই মশলাটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ ও সি এবং অন্যান্য উপাদানে ভরপুর। স্বাদবর্ধকের পাশাপাশি এর রয়েছে অ্যানটিব্যাকটেরিয়াল, অ্যানটিঅক্সিডেন্টাল ও অ্যানটিইনফ্ল্যামাটরি প্রপার্টি, যা এটিকে পরিণত করেছে একটি আরোগ্যকর ভেষজ মশলায়।

➤ খিচুড়ি ও মাংস ভুনায় গোটা গোলমরিচ কিংবা সিদ্ধ ডিমে একটু গোলমরিচের গুড়া খাবারে অন্যরকম স্বাদ নিয়ে আসে। অনেকেরই ধারণা, গোলমরিচ খেলেই পেট গরম করে। কিন্তু অথুল্য আয়ুর্বেদিক মেডিকেল রিসার্চ কেন্দ্রের মতে, শুধু স্বাদই নয়, গোলমরিচের কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে।

➤ কেউ যদি তাঁর ডায়েট চার্টে রোজ গোলমরিচ রাখেন, তাহলে শরীর থেকে টক্সিন ঘামের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। টক্সিন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলেও গোলমরিচ কাজে দেয়।

➤ গোলমরিচ ফ্যাট সেল ভেঙে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এর সাথে সাথে গোলমরিচ অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন করার জন্য এনার্জিও সরবরাহ করে।

➤ গোলমরিচ খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যা পাকস্থলীর প্রোটিনের অংশ ভেঙে ফেলার মাধ্যমে হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং খাবার দ্রুত হজম করতে সহায়তা করে।

➤ মুখের অরুচি দূর করতে আয়ুর্বেদে গোলমরিচ খেতে বলা হয়। এজন্য আধা চাচামচ গোলমরিচ গুঁড়োর সাথে এক টেবিল চামচ গুড় মিশিয়ে খেতে হবে, এতে করে অরুচি দূর করে ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়।

➤ কিছুটা অবাক হলেও এটি সত্য ত্বকের যত্নে গোলমরিচ ব্যবহার হয়ে আসছে। গোল মরিচে আছে অ্যান্টি ব্যাক্টরিয়্যাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান যা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে থাকে। এটি ব্ল্যাক হেডেস দূর করতে সাহায্য করে।

➤ গোলমরিচে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেনট প্রি-ম্যাচিউর স্কিন এজিং যেমন- ফাইন লাইন, রিঙ্কল, ডার্ক স্পট প্রতিরোধ করে। তাই দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স এর পেছনে গাদা গাদা টাকা খরচ না করে আপনার প্রতিদিনের খাবারেরতালিকায় রাখুন গোলমরিচ।

➤ জ্বরের সময় ঘাম ঝরিয়ে জ্বর কমাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। গলা ব্যাথা কমাতেও গোলমরিচ বেশ কার্যকর। তাই ঠাণ্ডা লাগলে এক বাটি গরম সুপে ছিটিয়ে দিন টাটকা গোলমরিচের গুঁড়ো।

➤ দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে, গোলমরিচ সেই ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। মাড়ির সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত   করা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, মুখের দুর্গন্ধ এসবের প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে খেতে পারেন গোলমরিচ। পানির মধ্যে গোলমরিচ ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে, পানিটা ঠান্ডা করে নিন। এরপরে এই পানি দিয়ে কুলকুচি করুন।

➤ গোলমরিচে উপস্থিত পিপেরিন নামক উপাদান স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। পিপেরিন শরীরের নিউট্রিশন অ্যাবজর্ব করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

➤ গোলমরিচের পিপেরিন সেরেটোনিন বৃদ্ধি করে বলে এটি ডিপ্রেশন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পিপেরিন ব্রেনের বেটা-এন্ডরফিন্স বৃদ্ধি করার সাথে সাথে মেনটাল ক্ল্যারিটি বৃদ্ধি করে। তাছাড়াও এন্ডরফিন প্রাকৃতিক পেইন কিলার ও মুড এলিভেটর হিসেবেও কাজ করে। এতে করে স্ট্রেস ও টেনশন দূর হয়।

➤ যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করেন, গোলমরিচ তেলের গন্ধ নিয়মিত সেবন করলে, বা সরাসরিভাবে গোলমরিচ খেলে ধূমপানের অভ্যেস কমতে থাকে।

➤ নাক বন্ধ থাকা, হাঁপানি ইত্যাদি সারাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হয়।

➤ ত্বকের রোগ থাকলে তার চিকিৎসাতে কাজে লাগে গোলমরিচ। গোলমরিচ গুঁড়া করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। ফলে ত্বকে সহজে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে। এছাড়া পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ।

➤ গোল মরিচে আছে উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা জীবানু ধ্বংস করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অন্ত্রনালীকে সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

➤ শীতের সময় সর্দি-কাশির সমস্যা খুবই সাধারন। শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে গোলমরিচ।

➤ গোলমরিচে রয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা ও আথ্রাইটিস প্রতিরোধের ক্ষমতা। এটি সারকুলেশন বৃদ্ধি করে জয়েন্ট পেইন কমাতে সাহায্য করে।

রান্নায় গোলমরিচ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে জেনে নিন কয়েকটি ঝটপট উপায়।

* স্টেক জাতীয় খাবার কোটিং এর সময় একটু গোলমরিচ ছিটিয়ে দিন এক্সট্রা ক্রাঞ্চের জন্য।
* অলিভ অয়েল, গোলমরিচ, লেবু আর এক চিমটি লবন মিশিয়ে বানাতে পারেন দারুন স্বাদের সালাদ ড্রেসিং।
* খাবার টেবিলেই রাখুন একটি মিনি গ্রিনডার আর খাবারে ছিটিয়ে দিন টাটকা গোলমরিচ গুঁড়ো।

তাহলে জানলেন তো গোলমরিচের নানা গুনের কথা। এবার আর দেরি না করে আজ থেকেই খাবারের মেনুতে যোগ করুন গোলমরিচ। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

No comments:

Post a Comment

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি!

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! শীত, গরম বা বর্ষাকালেও খুশকির যন্ত্রনা যেন মেটে না। পার্লারের আহাম...

Our Popular Posts