ফেলনা টি-ব্যাগের অজানা ব্যবহার
স্বাস্থ্যের উপকারে চায়ের দারুণ কিছু উপকারের কথা হয়তো আপনি অনেক আগে থেকেই জানেন। কিন্তু চা তৈরি করে ফেলার পর যে টি-ব্যাগ থাকে, সেটাকে কি আপনি হেলাফেলা করেই ফেলে দেন? কিন্তু আপনি কি জানেন এই ফেলনা টি ব্যাগের আছে নানা ব্যবহার? মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করা যায় এই ফেলনা টি ব্যাগ দিয়ে। শুধু তাই নয় আপনার ত্বকের সমস্যা সমাধানে জুড়ি নেই টি ব্যাগের। গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে তা আসতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আপনার খরচ বাঁচিয়ে দিতে পারে ছোট্ট একটি টি ব্যাগ।
চলুন জেনে নেয়া যাক এমনই দারুণ কিছু অজানা ব্যবহারের কথাঃ ১. মুখের ঘা সারাতে
মুখে সাদা এক ধরনের ঘা হয়। এটা সাধারণত অ্যালার্জি বা পুষ্টির অভাবে হয়। টি-ব্যাগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধাণ সম্ভব। চা’র মধ্যে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড যা রক্তনালিকার সঙ্কোচক এবং প্রদাহ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
 |
| ব্যবহৃত টি ব্যাগ কিন্তু মোটেই ফেলনা কিছু নয় |
২. মাড়ির রক্ত পড়া কমাতে
অনেকেরই মাড়ি দিয়ে রক্ত পরার সমস্যা আছে। মাড়ি থেকে একবার রক্ত পড়া শুরু হলে সহজে থামতে চায় না। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত টি ব্যাগ একটু ভিজিয়ে নিয়ে রক্ত পরার স্থানে ধরে রাখুন। কিছুক্ষনের মধ্যেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. চুলের যত্নে
ব্যবহৃত টি ব্যাগ এক মগ পানিতে ফুটিয়ে লিকার বানিয়ে নিন। চুল শ্যাম্পু করার পর এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এই লিকার চুলের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়াও চায়ের লিকার চুলকে খুশকিমুক্ত করে। শ্যাম্পু করার পর চায়ের পেস্ট মাখলে চুলের অনাকাঙ্ক্ষিত রঙ, আর্দ্রতা দূর হবে একই সঙ্গে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া রোধ হবে।
৪. ফাটা ব্রণের যত্ন
মুখে ব্রণ উঠলে বেশীরভাগ মানুষই সাবধান থাকেন, এতে হাত দেন না। কেউ বা আবার এটাকে টিপেটুপে ফাটিয়ে ফেলেন। কিন্তু ব্রণ ফাটানোর পরে তা থেকে যেন ইনফেকশন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখাটাও জরুরী। ব্রণ ফাটানোর পর একটা উষ্ণ এবং ভেজা টি ব্যাগ ওই ফাটানো ব্রণের ওপরে রাখুন। এতে লালচেভাব কমে যাবে এবং আরাম লাগবে।
৫. চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে
নানা কারণেই চোখের নিচে কালোদাগ পড়ে। এটি চোখের নিচের ত্বক বিবর্ণ হলে অথবা রক্ত সরবরাহ হঠাৎ করে বেড়ে গেলে এমন দাগ দেখা যায়। এমন হলে টেবিলে পেছন দিকে হেলে বসে পড়ুন। এবার টি-ব্যাগ ভিজিয়ে চোখের উপর কয়েক মিনিট রাখুন।
৬. রোদে পোড়া ভাব দূর করতে
ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর হবে নিমেষেই। টি-ব্যাগ থেকে কিছু চা বের করে পানিতে ভিজিয়ে হালকা করে পোড়া অংশে ঘষে দিন।
৭. পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে
অনেকের পায়ে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে, যা খুবই অস্বস্তিকর। এই সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা টি ব্যাগ পানিতে ফুটিয়ে নিন, সেটি ঠান্ডা করে তাতে পা ভিজিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। দেখবেন পায়ের দুর্গন্ধের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।
৮. জুতোর দুর্গন্ধ দূর করতে
টি ব্যাগের প্যাকেট খোলার সাথে সাথেই চায়ের দারুণ একটা সুবাস আপনার নাকে এসে লাগে, তাই না? এই সুগন্ধটির সদ্ব্যবহার করুন। ২-৩টি অব্যবহৃত অর্থাৎ শুকনো টি ব্যাগ রাখুন প্রতিটি জুতোয়। এক দিনের মাঝে আপনার জুতো থেকে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে। জুতোটা ধোয়াধুয়ির ঝামেলায় যেতে হবে না।
৯. গ্রিন টি গোসল
যাদের বাথটাব আছে তাদের জন্য এটা উপকারে আসতে পারে। ক্লান্তি দূর করতে বাথটাবে গরম পানিতে পাঁচটি টি ব্যাগ ছেড়ে দিন। এতে দারুণ একটা সুগন্ধ আপনার ক্লান্তি দূর করবে। আর ত্বকের জন্যও এটা খুব ভালো, বিশেষ করে যদি রোদে পোড়া ত্বক হয়ে থাকে।
১০. দুর্গন্ধ দূর করতে
একটি পাত্রে কয়েকটি ব্যবহৃত টি ব্যাগ দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। এটি ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করে দেবে। এছাড়া ময়লা ফেলার বাস্কেটে কিছু শুকনো চা পাতা দিয়ে রাখুন। এটি ময়লার গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে।
১১. ছাদের বাগান পরিচর্যায়
বাগান করার অভ্যাস না থাকলেও অনেকের বাড়িতেই কয়েকটা টবে গাছপালা থাকে। গাছের পুষ্টি জোগান দিতেও ব্যবহার করতে পারেন টি-ব্যাগ। চায়ের ট্যানিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক পলিফেনল গাছের দ্রুত বৃষ্টি ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে এসিড-লাভিং গাছগুলো এতে খুবই উপকৃত হবে। গাছগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
১২. বাসার পরিষ্কারক হিসেবে
তেল চর্বি দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন চা। মুখ দেখার আয়না, টেবিল, ফার্নিচার এমনকি আপনার মুখ থেকে তেলতেলে ভাব দূর করতেও ব্যবহার করতে পারেন টি-ব্যাগ।
১৩. থালা বাসনে জং ধরবে না
চায়ের মধ্যে থাকা ট্যানিন আপনার ধাতব বাসনকোসনে মরিচা ধরা প্রতিরোধ করবে। এই রাসায়নিকটি ধাতুর অক্সাইড তৈরি হওয়া বিলম্বিত করে।
১৪. শক্ত মাংস নরম করতে
মাংস ম্যারিনেট করতে অনেক সময় লাগে। এ কাজটি চা দিয়েও করতে পারেন। চার মধ্যে থাকা ট্যানিন মাংসপেশীগুলো ছিঁড়ে ফেলে ফলে যেকোনো শক্ত মাংস সহজে কাটা যায়, দ্রুত ম্যারিনেটও হয়।
১৫. কাঠের আসবাবপত্রের আঁচড় দূর করতে
চাকে বলা হয় প্রাকৃতিক রঙ। কাঠের আসবাবপত্রের গায়ে আঁচড় লাগলে একটি টি-ব্যাগ থেকে চা ঘষে দিন দাগ মিলিয়ে যাবে।
No comments:
Post a Comment