সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি (ব্রা)-র সাইজ পরিমাপ করুন

বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন,আমাদের দেশের  ৮৫% নারী ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী/ব্রা ব্যবহার করেন! তারা হয়তো পিছনের অংশ খুব বড় এবং কাপ (সামনের অংশ) খুব ছোট সাইজের পরছেন। মজার বিষয় হলো অনেকেই নিজের ব্রার সঠিক মাপ জানেন নাএবং  সঠিক মাপের ব্রা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। ফলে ক্যান্সার সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঠিক মাপের ব্রা পরিধান করলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। নিচের পদ্ধতি অনুযায়ী ছবির সাথে মিলিয়ে নিজের সাইজ নিজেই বের করতে পারেন।
চিত্রঃসঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ
সঠিকভাবে বক্ষবন্ধনি/ব্রা সাইজ পরিমাপ

# প্রথম ধাপ- ব্যান্ড / বন্ধনী (ঘের)সাইজ এর মাপ নিনঃ

একটি ইঞ্চি টেপ (কাপড় মাপার ফিতা) নিয়ে প্রথমে স্তনের ঠিক নিচেই আলতো ভাবে ফিতা ধরুন। নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। ফিতা ও শরীরের মাঝে এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রেখে পুরো ঘেরের মাপ নিন। ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮ যাই হোক যদি আপনার মাপটি বেজোড় সংখ্যায় আসে তবে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন, আর জোড়সংখ্যায় আসলে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন। আর এটাই হবে আপনার প্রকৃত ব্যান্ড (ঘের) সাইজ। দশমিক সংখ্যা এলে তার কাছাকাছি পূর্ণ সংখ্যা ধরবেন। যেমন, ২৮.৫ ইঞ্চি বা এর কম হলে ২৮ ইঞ্চি ধরবেন। ২৮.৬ ইঞ্চি বা এর বেশি হলে ২৯ ধরবেন।  যেমন স্তনের নিচের মাপ পেলে ২৯ ইঞ্চি, তাহলে ৫ ইঞ্চি যোগ করুন=৩৪ ইঞ্চি। আর এই মাপ যদি ৩২ ইঞ্চি হয় তবে ৪ ইঞ্চি যোগ করুন= ৩৬ ইঞ্চি হবে আপনার ব্যান্ড সাইজ।
চিত্রঃব্যান্ড/বন্ধনী/ঘের সাইজ পরিমাপ
ব্যান্ড/বন্ধনী/ঘের সাইজ পরিমাপ
# দ্বিতীয় ধাপ- কাপ সাইজ নির্ধরনঃ
এবার স্তনের সর্বোচ্চ স্ফিত অংশে ফিতা ধরে মাপ নিন। এই মাপ থেকে আপনার ব্যান্ড সাইজ-এর মাপ বাদ দিলেই আপনার কাপ সাইজ বেরিয়ে আসবে। যেমন আপনার ব্যান্ড  সাইজ ৩৪, আর স্তনের মাপ এলো ৩৭। তাহলে আপনার ব্রার সাইজ ৩৪ সি। প্রতি ইঞ্চিতে এক সাইজ বেড়ে যায়। ১"= এ, ২" = বি, ৩"= সি. ৪"=ডি ইত্যাদি।
চিত্রঃ কাপ সাইজ পরিমাপ
কাপ সাইজ পরিমাপ
উদাহরনঃ
যদি: ব্যাণ্ডের সাইজের মাপ (২৮+৪=) ৩২
এবং: কাপের সাইজের মাপ ৩৫
বিয়োগ করে পাই: ৩৫-৩২=৩, অর্থাৎ “সি”
তাহলে আপনার ব্রার সাইজ হবে “৩২সি”
চিত্রঃসঠিক সাইজ মাপার উদাহরণ
সঠিক সাইজ মাপার উদাহরণ
যেহেতু গঠন এবং আকৃতির ভিত্তিতে প্রত্যেক নারীর স্তনের সাইজ ভিন্ন (এমনকি একই নারীর দুই স্তনের আকারেও ভিন্ততা থাকতে পারে। মনে রাখবেন স্তন সাইজ মাপার সময় মোটা কাপড়ের উপর থেকে কখনওই মাপ নেবেন না। এতে সঠিক মাপ পাবেন না। উপরের পদ্ধতিতে যেসকল ব্রা আপনার সাইজের মনে হলো তা ট্রায়াল দিয়ে দেখতে পারেন কোন সাইজ আপনার জন্য আরামদায়ক। আপনাকে কয়েক সাইজের ব্রা পরিধান করে দেখতে হতে পারে, এমনকি ভিন্ন কোম্পানীর কিংবা ডিজাইনের ভিন্নতার কারনে একই সাইজ লিখিত থাকলেও তা আপনার উপযোগী ব্রা নাও হতে পারে। কারন কোম্পানী এবং ডিজাইন ভেদে একই সাইজের ব্রা ছোট বড় লাগতে পারে।

কাপ সাইজের পার্থক্যঃ
০”-১/২” AA
১/২”- ১” A
২” B
৩” C
৪” D
৫” DD or E
৬” DDD or F
৭” G
৮” H
৯” I
১০” J
A = ছোট
B = মাঝারি
C = বড়
D = বেশি বড়
E = অনেক বেশি বড়
কাপ সাইজগুলো হচ্ছেঃ AA, A, B, C, D, DD, E, F, FF, G, GG, H, HH, J, JJ, K, KK, L, LL
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট

ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার

ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার

প্রাচীনকাল থেকেই অলিভ অয়েল বহুল প্রচলিত। জলপাই থেকেই পাওয়া তেলই জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল নামে খ্যাত। অলিভ অয়েল ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটি এসিডে ভরপুর তাই শুধু হার্টের জন্য নয় পুরো মানব দেহের জন্যই উপকারী। এটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও নিরাপদ। 
হেলেন অফ ট্রয় খ্যাত লেখক হোমার অলিভ অয়েলকে তরল সোনা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 
অলিভ অয়েলের উপকারিতা কমবেশি সবার জানা। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন উপায়ে আমরা এই তেল ব্যবহার করে থাকি। আজকাল বিভিন্ন কসমেটিকস কোম্পানিও অলিভ অয়েলের গুণের কথা মাথায় রেখে তাদের প্রসাধনী সামগ্রীতে এই তেলের ব্যবহার করছেন। তবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিবেন আপনার বাছাই করা অলিভ অয়েলটির গুণগত মান। শুধু রান্নায় নয়, বরং  রূপচর্চা বা স্বাস্থ্য পরিচর্যায়ও এর ব্যবহার অতুলনীয়।অলিভ অয়েলের নাম শুনে কি চোখের সামনে তেল চটচটে একখানি মুখ ভেসে উঠছে? ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করেই দেখুন, আপনার ভ্রান্ত ধারণার অবশ্যই অবসান ঘটবে। চলুন জেনে নেয়া যাক ত্বকের যত্নে কিভাবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়।
চিত্রঃত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার
ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার
ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবেঃ  একটি ডিমের কুসুমের সাথে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল আর ৩ ফোটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তারপর মুখে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করে প্রথমে হালকা গরম পানি তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা পানি খুলে যাওয়া পোরস বন্ধ করে। নরমাল অথবা শুষ্ক ত্বকে এই মাস্ক আর্দ্রতা বজায় রাখবে সেই সঙ্গে নরম কোমল করে তুলবে।

ময়েশচারাইজার হিসেবেঃ অলিভ অয়েলে আছের লিকুইড এসিড, যা পানি বাষ্প হতে দেয়না। তাই ১/২ কাপ অলিভ অয়েল, ১/৪ কাপ ভিনেগার বা লেবুর রস আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে একটি সলিউশন তৈরি করে রাতে ঘুমানোর সময় নাইট ক্রিমের মত ব্যবহার করা যায়। অলিভ অয়েল ত্বক নরম করে, ভিনেগার ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

সান প্রোটেকশন হিসেবেঃ  অভিল অয়েলে ভিটামিন এ এবং ই আছে সেই সঙ্গে ৩ রকমের এন্টঅক্সিডেন্ট আছে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। তাই যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দেয়া হয় তবে সানট্যান থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়।

ব্রণ প্রতিরোধক হিসেবেঃ  শুনতে অবাক লাগলেও ব্রণের চিকিৎসায় তেলের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সেই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করলে এক সপ্তাহ পড়ে অবশ্যই পরিবর্তন দেখতে পারবেন। লবণ এক্সফলিয়েশন করে পোর পরিষ্কার করে আর অলিভ অয়েল মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

এছাড়াও  শিশুদের গায়ে বিশেষ করে শীতের দিনে এই জলপাই তেল বা অলিভ ওয়েল অত্যান্ত উপকারী। এটি নিয়মিত ব্যবহারে শিশুদের ত্বক থাকে আরো কোমল ও মোলায়েম।

ডিমের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ

ডিমের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ

ডিম সহজে পরিপাকযোগ্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। ডিমে প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি২, টোটাল ফ্যাট, ওমোগ-৩ ফ্যাটস, ভিটামিন এ-ডি-ই ও কে; ক্যারোটিনয়েডস, ভিটামিন বি৫, বি৬, বি১২; ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি১, বায়োটিন, সোলিনিয়াম প্রভৃতি রয়েছে। হাঁসের ডিম এবং মুরগির ডিম, দুটোই ভালো। পুষ্টিমূল্যের বিবেচনায় হাঁস ও মুরগির ডিম প্রায় একই মানের বলা যায়। কিন্তু ডিম খাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য সচেতন লোকেরা প্রায়ই অনুমান নির্ভর কিছু ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন। তারা মনে করেন ডিম খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বা হার্ট অ্যাটাক/স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেকে বিশেষ করে মহিলারা মনে করেন যে ডিম শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান রাখে। তাছাড়াও ডিম সম্পর্কে আমাদের আরো নানা রকম ভুল ধারণা রয়েছে, যেগুলোর আদৌ কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। ফলে অনেকেই তাদের খাদ্য তালিকা থেকে ডিম বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুনাগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক ছোট একটা ডিমে কি কি গুনাগুন বিদ্যমান আছে।
চিত্রঃডিমের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ
ডিমের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ

ডিমের পুষ্টি উপাদান শরীরে যেসব উপকার করে

প্রোটিনের অন্যতম উৎসঃ ডিমকে বলা হয় প্রোটিনের অন্যতম উৎস। ডিম পেশি, অঙ্গ, ত্বক, চুল এবং বিভিন্ন টিসুর জন্য প্রোটিন হরমোন, এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে।

রক্তশূন্যতা দূর করাঃ আয়রন মানব কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে ও রক্তশূন্যতা দূর করে। ডিমে বিদ্যমান আয়রন সহজে হজম হয়। ফলেট নতুন কোষ তৈরি ও রক্তস্বল্পতা দূর করে এবং গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়ঃ এলডিএল কোলস্টেরলকে মন্দ কোলস্টেরল হিসেবে বলা হয়। এটি ডিম খেলে কমে যায়। তাই ডিম খাওয়ায় হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে না বরং কমে যায়।এটা হার্টকে ভালো রাখে। এ জন্য ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার দেহে এনার্জি বা শক্তি প্রদান করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ ডিম দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। একটি বড় ডিমে রয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ আরডিএ বা সেলেনিয়াম। এটি শিশুদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতেও বিশেষভাবে কার্যকর, যা তাদের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।

উদ্যম শক্তি যোগায়ঃ একটি ডিমে রয়েছে দৈনিক চাহিদা পূরণের উপযোগী ১৫ শতাংশ ভিটামিন বি। দৈনিক ডিম খেলে দেহের ভিটামিন বি-র চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখে যা দেহে শক্তি যোগায়।

ত্বক ও চুলের উন্নতিঃ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকায় ডিম সুস্থ চুল, ত্বক, চোখ ও লিভার গঠন করতে সহায়তা করে। ভিটামিন ‘এ’ ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। এটা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। ডিমের ভিটামিন দেহের নার্ভাস সিস্টেম উন্নত করে এবং মাংসপেশির উন্নয়ন ঘটায়।

মস্তিষ্কের উন্নতিঃ ডিম মস্তিষ্কের প্রচুর উন্নতি ঘটায়। এতে রয়েছে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যার নাম কোলিন। কোলিন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা রক্ষা করে ও মস্তিষ্ক ভালো রাখে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়ঃ ডিম মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি মানুষের মনের ওপর প্রভাব ফেলে।

হাড় ও দাঁত মজবুত করাঃ ডিমের উপাদান আপনার হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সহায়তা করে। ডিম প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি-এর উৎস। এটি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে। হাড় এবং দাঁতের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ খুবই উপকারী।

পূর্ণতার অনুভূতিঃ পেট ভরে খাওয়া হলেও আমাদের ক্ষুধা লাগতে পারে। আর এতে বাড়তি খাবার খেয়ে দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে। ডিমের উপাদানগুলো আপনাকে খাওয়ার পর পেটে পূর্ণতার অনুভূতি দেবে। এতে বাড়তি খাওয়ার ক্ষুধা কমে যায়।

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রনেঃ ডিম খেলে দেহের ওজন কমে একথা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে পরিমিত মাত্রায় ডিম খেলে দেহের ওজন কমানো সম্ভব। মূলত ডিমে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় তা বাড়তি খাবার খাওয়ার চাহিদা কমিয়ে দেয়। এতে ক্ষুধা কমে যায় এবং দেহের ওজনও কমে যায়। সুতরাং ওজন কমাতে ডিমের অপরিসীম অবদান।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতেঃ ডিমে অবস্থিত লুটিন ও জেক্সান্থিন এই দুটি ক্যারটিনইয়েড আমাদের দৃষ্টি শক্তিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডিমের লিউটিন চোখকে ভালো রাখে ও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- চোখে ছানি পড়া এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন থেকে চোখকে রক্ষা করে।

ক্যালরি বৃদ্ধিতেঃ ছোট্টো একটা ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রত্যেক নারীর শরীরে রোজ কমপক্ষে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের দরকার। একটি ডিমে থাকে ৭০-৮৫ ক্যালোরি বা ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। সুতরাং সুস্থ থাকতে রোজ ডিম খেতেই পারেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ ডিমে আছে ভিটামিন ই। এটি কোষ এবং ত্বকে উত্‍পন্ন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নষ্ট করে স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। ডিমে প্রচুর ভিটামিন বিদ্যমান থাকায় সপ্তাহে যদি ৬টি ডিম খেলে  ৪০% পর্যন্ত স্তনের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।

পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে

পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে 

আমাদের সবার গায়ের রং এক রকম নয়। কারো ফর্সা, কারো কালো, কারো তামাটে বা কারো শ্যামলা। কেউ হয়তো চিকন আবার কেউ বা মোটা। কিছু কিছু রং আমাদের সবাইকে মানিয়ে যায়। আবার কিছু কিছু রং গায়ের রঙের সাথে একটু মিলিয়ে পরতে হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত কথা হচ্ছে ফর্সা মেয়েটিকে যে কোন ড্রেসেই সুন্দর দেখায় আর কালো মেয়েদের কোন রঙেই ভালো লাগেনা। কালো গায়ের রং হলে সব রঙের পোশাক পরা যাবে না। ব্যপারটা কিন্তু আসলেই তা নয়। ফর্সা, কালো, শ্যাম বর্ন, চিকন কিংবা মোটা শুধু একটু সাজিয়ে গুছিয়ে পরতে পারলে যেকোন রঙ ই আপনার জন্য পারফেক্ট হতে পারে।
চিত্রঃপোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ছবিঃসংগৃহীত
পোশাক নির্বাচন করুন গড়ন ও রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। ছবিঃসংগৃহীত
গায়ের রং যখন ফর্সাঃ সবার ধারণা গায়ের রং যদি উজ্জ্বল হয়, সব রং-ই পরা যায়, জামার ডিজাইন যেমন-ই হোক না কেন। বাস্তবে ব্যাপারটি কিছুটা ভিন্ন। ব্যক্তিভেদে পোশাকের রং নির্বাচন করা উচিত। ফর্সা রঙের মেয়েদের গাঢ় রঙের চেয়ে হালকা রঙে বেশি মার্জিত লাগে। ফর্সারও ধরণ আছে। সাদা ফর্সা, গোলাপি ফর্সা, হলদে ফর্সা। সাদা ফর্সাদের হালকা রঙের পোশাকে বেশি ভালো লাগে। গাঢ় হালকার মিশ্রণেও ভালো মানায়। গোলাপি বা লালচে ফর্সাদের মাঝামাঝি গাঢ় রং কিংবা হালকা- দুটোই মানায়। হলদে ফর্সাদের মোটামুটি সব রং-ই মানিয়ে যায়।

গায়ের রং যখন শ্যামলাঃ যেকোন রং নির্বাচন করার আগে আয়নায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিন, আপনাকে মানাচ্ছে কিনা। এমন রং নির্বাচন করা উচিত যাতে আপনাকে উজ্জ্বল দেখাবে। শ্যামলা রঙের মেয়েদের জন্যে বাসন্তি, হলুদ, ডিমের কুসুম হলুদ, হালকা কমলা, মেরুন, সাদার সাথে লালের কম্বিনেশন, হালকা সবুজ-এই রঙগুলো সহজেই মানিয়ে যায় আর উজ্জ্বল লাগে। কালচে বেগুনি অর্থাৎ ঘন গাঢ় বেগুনি, নীল, গাঢ় ঘন কালচে সবুজ ইত্যাদি রং পরলে গায়ের রং আরও ডার্ক মনে হতে পারে। তবে কালচে নেভি ব্লু তে শ্যামলাদের ভালো লাগে।

গায়ের রং যখন কালোঃ গায়ের রং একটু কালোর দিকে হলে অনেকেই পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলায় পড়েন। হয়তো ভাবেন কোন রং-ই মানাচ্ছে না। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। যেকোন রং-ই আপনি পরতে পারেন, তবে পরার আগে আয়নায় পোশাকটি গায়ের উপর ধরে একটু দেখে নিন, আপনাকে কেমন মানাচ্ছে। গায়ের রং কালো হলেও চেহারা আকর্ষণীয় আর একটু চিকন ধাঁচের হলে যেকোন পোশাকেই আকর্ষণীয় লাগে। যদি ডার্ক রঙের পোশাক পরতে চান তবে সাজসজ্জা টা একটু হালকা করতে হবে, কম গয়না পরতে হবে। ওড়না যদি রংচঙে হয়, জামাটা হালকা রঙের হতে পারে। এভাবে নিজের মতো করে মিলিয়ে নিতে হবে। যেকোনো রং-ই বুঝে পরা যেতে পারে। তবে খুব চোখে লাগে এমন কোনো রং ব্যবহার না করাই ভালো। কটকটা লাল রং টা সাধারণত দৃষ্টিকটু লাগে।

গড়ন যদি হয় চিকনঃ একটু ভারী কাপড়ের ফোলা কাপড় পরতে হবে। গায়ে লেগে থাকে এমন কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ পরবেন না। শাড়ির ক্ষেত্রেও এমন শাড়ি পরবেন যা একটু ফুলে ফেঁপে থাকে। ভারী কাজের, গাঢ় রঙের- সবই তারা পরতে পারেন, এতে স্বাস্থ্য একটু ভালো দেখাবে। ছাপার পোশাকের ক্ষেত্রে বড় বড় ছাপার ড্রেস নির্বাচন করুন। কিন্তু কখনই গায়ে লেগে থাকে এমন পোশাক পরবেন না,এতে আরও রোগা দেখাবে।

মাঝারি গড়ন যাদেরঃ মাঝারিরা সব ধরনের পরতে পারলেও, এমন সালোয়ার-কামিজ পরবেন না যা বেশি ফুলে থাকে। এতে করে খানিকটা মোটা লাগতে পারে। শাড়ির ক্ষেত্রে বেশি ফুলে থাকে এমন শাড়ি, যেমন – টিস্যু বা মসলিন পরলে স্বাস্থ্য ভারী মনে হবে। তারা মোটামুটি সব কাজের সব প্রিন্টের শাড়িই পরতে পারেন।

গড়ন মোটার দিকে হলেঃ ফুলে থাকে এমন মচমচে কাপড়ের সালোয়ার-কামিজ পরবেন না। শাড়ির ক্ষেত্রে গোলগাল মেয়েরা অবশ্যই ফুলে থাকে এমন শাড়ি কিংবা খুব ভারী কাজের যেসব শাড়ির পুরো জমিনে কাজ ভর্তি – এমন শাড়ি পরবেন না। এতে আরও মোটা দেখাবে। মোটা গড়নের মেয়েরা শরীরের সাথে লেগে থাকে এমন শাড়ি নির্বাচন করবেন। বেশি গাঢ় রঙের শাড়ি পরলেও মোটা লাগবে। ভারী জরি পাড় ধরনের শাড়িতেও মোটা লাগবে। কাতান পরলে শুধু পাড়-আঁচলে কাজ করা বা মাঝে হালকা ছিট ছিট কাজ করা শাড়ি পরুন। সিফন হলে কিছুটা ভারী কাজের পরতে পারেন। কেননা এ শাড়িগুলো শরীরে লেগে থাকে। টিস্যু, মসলিন, ফুলে থাকা শাড়ি মোটেই পরবেন না। প্রিন্টের শাড়ি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। মোট কথা নিজেকে বেশি মোটা লাগে- এমন শাড়ি কখনো পরা উচিত নয়।

উচ্চতা অনুযায়ীঃ আপনার উচ্চতা কম হলে সালোয়ার বা প্যান্ট খুব বেশি ঢোলা পরবেন না, তাতে আরও খাটো দেখাবে। টাইটস, লেংগিস বা জেংগিস পরতে পারেন কামিজের সাথে। উচ্চতা কম হলে পশ্চিমা পোশাক পরতে হয় খুব সাবধানে। একেবারে ছোট টপস, গেঞ্জি, শার্ট পরবেন না। মাঝারি ঝুলের ফতুয়া, গেঞ্জি, টপস ইত্যাদি পরুন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের পোশাক পরবেন না। লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন।
লম্বা যারা তারা একটু খাটো পোশাক পরতে পারেন। একেবারে লং না পরে সেমি লং পোশাক পরতে পারেন। আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় জংলী প্রিন্টের পোশাক বেছে নিন।

টিপসঃ
* আপানার গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন সবকিছুর সাথে মিলিয়েই পোশাক নির্বাচন করুন।
* অনেকের থাই মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে টাইট সালোয়ার না পরে, সেমি ফিট বা ঢোলা সালোয়ার পরা উচিত। তাদের লেগিংস এড়িয়ে চলাই ভালো।
* অনেকের হাত শুধু মোটা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ছোট হাতার পোশাক না পরে কোয়ার্টার বা লং হাতার পোশাক পরা উচিত।
* মোটা হলে শাড়িতে কুচি একটু কম দিতে হবে, আঁচল বড় রাখতে হবে। চিকন হলে কুচি বেশি দিতে হবে।
* ব্লাউজ এর ক্ষেত্রে যারা মোটা,তারা ছোট প্রিন্টের বা চেকের স্ট্রেইট কাটের থ্রিকোয়ার্টার ব্লাউজ পরতে পারেন।
* যাদের কাঁধ চওড়া তারা ভি শেপ এর গলা দিতে পারেন। এতে চওড়া কম দেখাবে।

এভাবে আপনার গড়ন, গায়ের রং, ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন। তথ্যসূত্রঃ সাজগোজ ডট কম

ফুলকপির রোস্ট

ফুলকপির রোস্ট

উপকরনঃ
১।ফুলকপি ১টি (৭ কাপ)
২। লবন পরিমানমতো
৩। আদা গুড়া ২ টেবিল চামচ
৪। ব্রেডকাম ১কাপ
৫। পনির কুঁচি ১/৩ কাপ
৬। অলিভ অয়েল ৩-৪ চা চামচ
চিত্রঃফুলকপির রোষ্ট
ফুলকপির রোষ্ট
প্রস্তুত প্রণালীঃ
* প্রথমে ফুলকপি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ছোট টুকরা করে নিন বাটি অথবা জিপ লক ব্যাগে ভরে নিন।
* টুকরা করা কপির সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন ভালোমতো। এরপরে একে একে লবন, আদাগুড়া, ব্রেডকাম ও পনির কুঁচি ভালোমতো মিলিয়ে নিন।
* ওভেনে ৪২৫ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ২০ মিনিট রেখে গরম গরম পরিবেশন করুন ফুলকপির রোস্ট। আপনি চাইলে চুলাতে ও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে ফুলকপির দিয়ে ভালোমতো ঢেকে রান্না করুন সেদ্ধ  না হওয়া প্রযন্ত।

ভিডিও লিংকঃ https://www.iwashyoudry.com/parmesan-roasted-cauliflower/

জেনে নিন, চুলের যত্নে অলিভ অয়েলের বিভিন্ন ব্যবহার!

জেনে নিন, চুলের যত্নে অলিভ অয়েলের বিভিন্ন ব্যবহার!

অলিভ অয়েল কেবল রান্নার কাজেই ব্যবহৃত হয় না, ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য অলিভ অয়েল মহৌষধ। ত্বকের শুষ্কতা দূর করার পাশাপাশি ঝলমলে চুলের জন্যও চাই অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েল চুলে পুষ্টি যোগায় আর অলিভ অয়েলে বিদ্যমান ভিটামিন ই এবং এ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। চুলের যত্নে অলিভ অয়েল অনেক বেশি উপকারি। এটি সরাসরিও চুলে ব্যবহার করা যায়, এতে কোনোপ্রকার ক্ষতি হয় না। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর উপকরণের সাথে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

চিত্রঃচুলের যত্নে অলিভ অয়েলের বিভিন্ন ব্যবহার!
চুলের যত্নে অলিভ অয়েলের বিভিন্ন ব্যবহার!
ফ্রিজি চুলের সমাধানঃ একটি চিরুনি অলিভ অয়েলের মধ্যে ডুবিয়ে নিন তারপর ফ্রিজি চুলে আঁচড়ে নিন। এতে চুল ময়েশচার হয়ে ফ্রিজিনেস কেটে যাবে।

হেয়ার কন্ডিশনারঃ শ্যাম্পু করার পর হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল নিয়ে ভালো ভাবে দুই হাতে ঘষে ফেলুন। তারপর চুলে কন্ডিশনারের বদলে লাগিয়ে ফেলুন।

ডিপ কন্ডিশনঃ সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একবার হালকা গরম অলিভ অয়েল চুলে ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে লাগান। এভাবে ২/৩ ঘণ্টা চুলে তেল লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করুন। তারপর নিজেই লক্ষ করবেন শাইনি আর স্বাস্থ্যকর চুলের বাহার।

খুশকি থেকে মুক্তিঃ সমপরিমাণ জলপাই তেল আর বাদামের তেল একসাথে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ করলে খুশকি অনেকটা কমে আসবে।

নতুন চুল গজানোঃ মাথায় অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে গরম পানিতে ডুবানো তোয়ালে দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন তাপমাত্রা যেন সহ্য ক্ষমতার মধ্যে থাকে। তোয়েল ঠাণ্ডা হয়ে গেলে মাইক্রোওয়েভে আবার গরম করে নিন। এভাবে কয়েকবার করুন।

হেয়ার মাস্কঃ একটি ডিমের কুসুমের সাথে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ৫ ফোঁটা লেবুর রস মেশান। চুলে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন তারপর ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুল হয়ে উঠবে নরম আর উজ্জ্বল।

লাল রঙের পোশাকে নারী অধিক আবেদনময়ী!

লাল রঙের পোশাকে নারী অধিক আবেদনময়ী!

ছোট বাচ্চা থেকে তরুণী কিংবা মধ্যবয়স্ক সবার কাছেই লাল রঙ অধিক জনপ্রিয়। পার্টি,বিয়ের পোশাক হিসেবে মেয়েরা প্রথমেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন লাল রঙকে লাল রঙ অনেক দূর থেকে সহজেই চোখে পড়ে। লাল রঙকে প্রায়ই কর্মশক্তি, যুদ্ধ এবং বিপদের প্রতীক বলে মনে করা হয়। আমাদের আবেগের ওপর এই রঙের জোরালো প্রভাব রয়েছে এবং এটা মানবদেহের বিভিন্ন কাজ যেমন, বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়াতে পারে ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
চিত্রঃলাল রঙের পোশাকে নারী অধিক আবেদনময়ী!
লাল রঙের পোশাকে নারী অধিক আবেদনময়ী
এই কথা মোটামুটি সকলেই জানেন যে লাল পোশাক পুরুষদের চোখে নারীদেরকে করে তোলে অনেক অনেক বেশী আকর্ষণীয় ও আবেদনময়ী। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন এর পেছনে কারণ কি? গবেষণায় দেখা গেছে এই লাল রঙের পোশাকের সাথে রয়েছে যৌনতার একটি প্রত্যক্ষ সংযোগ। এবং কেবল লাল পোশাক নয়, লাল রঙের কিছু নারীর সাথে থাকলেও তা পুরুষকে সমানভাবে আকর্ষণ করে!
নিউইয়র্কের City University-এর একটি গবেষণায় বের হয়ে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য। লাল পোশাকে নারী হয়ে ওঠেন পুরুষের জন্য অনেক বেশী আকাঙ্ক্ষিত। তবে কেবল সেই নারীরাই, যাদেরকে পুরুষেরা সুন্দরী মনে করেন বা যাদের প্রতি আগে থেকেই একটু আগ্রহ ছিল। অর্থাৎ, লাল রঙ পরলেই কোন নারী আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন না কোন পুরুষের চোখে। বরং বলা ভালো, আকর্ষণীয় নারীদের যৌন আবেদন আরও বাড়িয়ে দেয় লাল রঙের পোশাক।সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে লাল রঙটি তাঁদেরকে আবেদনময়ী করে তোলে বিপরীত লিঙ্গের চোখে। এবং পুরুষদেরকে আকর্ষণ করতে চাইলে লাল রঙ হতে পারে অব্যর্থ হাতিয়ার। তবে সব মিলিয়ে অন্য সব রঙের চাইতে লালটিই নারীদের ক্ষেত্রে সবচাইতে আকর্ষণীয় প্রমাণিত। লাল পোশাক শুধু নয়, লাল ব্যাগ কিংবা ল্যাপটপের মত জিনিস বহন করাও কোন একটা বিচিত্র কারণে পুরুষদেরকে আকর্ষণ করে। সুন্দরী নারীরা লাল পরিধান করলে পুরুষের চোখে তাঁরা আরও বেশী আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। তবে পুরুষ দৃষ্টি যাকে অসুন্দর মনে করে, তাঁদের ক্ষেত্রে লাল পরিধান কোন প্রভাব ফেলে না। ছবি ও তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

সহজেই দূর করুন ব্ল্যাক হেডস

সহজেই দূর করুন ব্ল্যাক হেডস  

ত্বকে ব্ল্যাক হেডস নিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। ব্ল্যাক হেডস এক ধরনের ব্রন যার ওপর কোন পর্দা থাকেনা। যা বাতাসের সাথে অক্সিডায়েস হয়ে কালো বর্ণ ধারন করে। নাকের উপর আর ঠোঁটের নিচে থুতনির উপরের অংশে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যায় কম বেশি সবাইকেই ভুগতে হয়। শরীরে হরমোন পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা হয়।
ব্ল্যাক হেডস একটি বেয়ারা সমস্যাই বলা চলে। কারণ এটি স্থায়ীভাবে দূর করা কখনও সম্ভব হয় না। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও এই সমস্যা ফিরে আসতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিচর্যা করা জরুরি। ঘরে বসেই ব্ল্যাক হেডস দূর করা যায়-
চিত্রঃসহজেই দূর করুন ব্ল্যাক হেডস
সহজেই দূর করুন ব্ল্যাক হেডস
*  সপ্তাহে একবার ভালো করে স্ক্রাবার দিয়ে মুখ স্ক্রাব করতে হবে। ঘরোয়া উপায়ে ফেসওয়াশের সাথে চিনি মিশিয়ে ব্যবহার করলে স্ক্রাবারের মতো উপকার পাওয়া যায়।
*  ডিমের সাদা অংশ নাকে লাগিয়ে টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়ে দেবেন। শুকিয়ে গেলে মাক্সের মতো করে তুলে ফেলবেন। দেখবেন টিস্যু পেপারে ব্ল্যাকহেডস জমা হয়ে আছে।
*  আধা চামচ দারুচিনির গুঁড়া এবং ১ চামচ ময়দা মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এরপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ধুয়ে ফেলতে হবে। দারুচিনির জন্য মুখ জ্বলতে পারে কিন্তু তাতে ভয়ের কিছু নেই। কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে যাবে।
* লেবুর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ঘষে নিতে হবে। এবার আধা ঘণ্টা পর মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে লেবু ব্ল্যাক হেডস দূর করবে আর মধু ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে।
* মুখে ময়লা জমেও ব্ল্যাক হেডস হতে পারে। বেকিং সোডা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল-চামচ বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ত্বকের যেখানে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা আছে সেখানে এই পেস্ট লাগিয়ে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দু্ই থেকে তিনদিন এটি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

টিপসঃ

  • অতিরিক্ত  মেক আপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। আর ব্যবহার করলেও তা ভালো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্ল্যাক হেডস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • শরীর আর মুখের জন্য আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।
  • তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  • প্রতিদিন অন্তত দুই বার মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বকের ময়লা দূর হয়, যে তেল পরিষ্কার লোমকূপের মুখ বন্ধ করে আছে, তা সরে যায়।

ঘরে তৈরি করুন চিকেন বল

ঘরে তৈরি করুন চিকেন বল 

বিকেলের নাস্তা কিংবা টিফিনে চিকেন বলের কদরই আলাদা। এটি যেমন সুস্বাদু তেমন তৈরি করতে ঝামেলাও কম। বাসায় মেহমান আসলেও ঘরে তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু মজাদার এই রেসিপি।
চিত্রঃচিকেন বল
চিকেন বল

উপকরণঃ
১। মুরগির কিমা ৫০০ গ্রাম
২। ডিম ১টি
৩। ময়দা ১ টেবিল চামচ
৪। বিস্কুটের গুঁড়া ১/২ কাপ
৫। পুদিনা পাতা, ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ
৬। কাঁচামরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ
৭। আদা ও রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
৮। পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ
৯। গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ
১০।লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ
১১।লবণ, তেল পরিমানমতো।

প্রণালিঃ
প্রথমে মুরগির কিমায় একে একে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ, ময়দা, ডিম এবং কুচি করা ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে গোল গোল করে নিন। বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়িয়ে ডুবন্ত গরম তেলে ভেজে টিস্যুতে তুলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম চিকেন বল।

নখের যত্নে করণীয়

নখের যত্নে করণীয়

হাত বা পায়ের দিকে তাকালে প্রথমে সবার চোখ পড়ে নখের দিকে। পরিচ্ছন্ন নখ কেবল হাত-পায়ের সৌন্দর্যটাই বাড়িয়ে তোলে না, একইসঙ্গে এটি ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। ঝকঝকে, আকর্ষনীয়, সুন্দর নখ সবার পছন্দ।

নখ সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য পেডিকিওর-মেনিকিওর এবং পাশাপাশি নখের পরিচর্চা করা ও জরূরি। সেই সাথে মেনে চলুন কিছু নিয়ম কানুন। আর এই আর্টিকেল আপনাকে সাহায্য করবে জানতে কিভাবে সুন্দর নখ পাওয়া যেতে পারে এবং সেই জন্য কি কি আপনার করনীয়।
চিত্রঃনখের যত্নে করনীয়
নখের যত্নে করনীয়। ছবিঃসংগৃহীত
১। নখ ভাঙার সমস্যা থাকলে প্রতি সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে নখ ও আঙুল ম্যাসাজ করলে নখ ভাঙা কমে যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিয়ে নখ ম্যাসাজ করুন।
২। নখ ভাঙা থেকে রেহাই পেতে নেইল হার্ডনার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ১ বার নখ ফাইল করুন। যাদের নখ দুর্বল তারা মেটাল ফাইলার ইউজ না করে পেপার ফাইলার ইউজ করলে ভাল।
৩। পুষ্টির অভাবে নখ ভেঙে যেতে পারে। ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খাবেন। খাদ্যতো পুষ্টি যোগাবে ভেতর থেকে আর বাইরের যত্নও নিতে হবে আপনাকে।
৪। অনেক সময় সবজি কাটলে নখে কালো দাগ পড়ে। কাটা লেবু ঘষলে নিমিষেই কালো দাগ দূর হয়ে যায়।
৫। নখে এক সপ্তাহের বেশি নেইলপলিশ লাগিয়ে রাখা উচিত নয়। মাঝে অন্তত দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার নেইলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করলে নখ ড্রাই হয়ে যায়।
৬। হাতের নখ কামড়ানো বন্ধ করতে হবে। সেটা যদি কন্ট্রোল না করা যায় তাহলে বাজারে কিছু তিক্ত স্বাদের নেইল পলিশ আছে সেগুলো লাগালে ২য় বার ভুলেও আঙ্গুল মুখে দিবেন না সিওর।
৭। শক্ত নখের জন্য প্রতিদিন ১ গ্লাস দুধের বিকল্প কিছুই নেই।
৮।  নখের জিনের উপর নখ ভাঙ্গাটা নির্ভর করে তাই নখ ফাইল করার সময় একই ডিরেকশনে নখ ফাইল করুন, বিভিন্ন ডিরেকশনে ফাইল করলে নখ ফাঁটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৯। পানি পান করুন পর্যাপ্ত তাতে আপনার নখের সাথে সাথে শরীরও ভাল থাকবে। নখে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
১০। নখের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিউটিকল একটি বড় ভূমিকা পালন করে তাই তার দিকেও একটু নজর দিন। কিউটিকল ভাল রাখার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন বা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। সম্ভব হলে কিউটিকল অয়েল ইউজ করুন।
১১। লেমন জুস বা দুধের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য নখ ডুবিয়ে রাখতে পারেন তাতে নখে ক্যালসিয়াম বাড়বে যদিও এগুলো খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। হালকা গরম দুধ নখ সাদা করতেও সাহায্য করে।
১২। ভিটামিন ই শুধু চুলের জন্যই ভাল না, এটি নখের বৃদ্ধির জন্যও ভালো তাই নখের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন ই যুক্ত খাবার অথবা ট্যাবলেট গ্রহণ করুন।
১৩। নেইল পলিশ লাগানোর আগে বেইজকোট বা নখ শক্ত করে এমন বেইজকোট লাগানো জরুরী। এটা নখ বাড়তেও সাহায্য করে। প্রতিবার নেইল পলিশ উঠানোর সময় নখকে ময়েশ্চারাইজ করুন তাতে রিমুভার ব্যবহারের ধকল কিছুটা সামলানো যাবে।

নখের যত্নে সবচেয়ে বড় কথা হলো শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো একেও ভালবাসুন। নখের আর কি হবে এই ভাবনা না করে এর যত্ন নিন, কখনো কখনো নখও আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে। তাই মনোযোগী হন নখের প্রতিও।

লক্ষীপূজায় থাকুক রকমারি নাড়ু্র বাহার!

লক্ষীপূজায় থাকুক রকমারি নাড়ু্র বাহার!

দেখতে দেখতে চলে এলো লক্ষীপূজা। পূজাকে ঘিরে থাকছে নানা আয়োজন। নাড়ু ছাড়া তো পূজার কথা ভাবা অসম্ভব। আর লক্ষীপূজা মানেই তো নানা রঙের নানা স্বাদের নাড়ু। পূজাকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে তৈরি হবে কয়েক রকমের নাড়ু। আজ আপনাদের জন্য রইল বিভিন্ন রকমের নাড়ুর রেসিপি।
চিত্রঃরকমারি নাড়ু
রকমারি নাড়ু। ছবিঃসংগৃহীত

নারকেল দুধের নাড়ু

উপকরণঃ নারকেল, দুধ , চিনি পরিমানমতো, এলাচগুঁড়ো সামান্য, তেজপাতা ১টি।

চিত্রঃনারকেল দুধের নাড়ু
নারকেল দুধের নাড়ু
প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে নারকেল কুরিয়ে মিহি করে বেটে নিন। এরপর চুলায় চিনি ও সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে তারমদ্ধে বাটা নারকেল, তেজপাতা ও এলাচ গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে তারমদ্ধে দুধ দিয়ে আঠা আঠা হয়ে যাওয়া প্রযন্ত নাড়তে থাকুন যেন কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়। জ্বাল হয়ে গেলে কড়াই চুলা থেকে নামিয়ে তেজপাতা ফেলে গরম থাকতে থাকতে নারিকেলের খামি হাতে নিয়ে গোল গোল করে তৈরি করুন নাড়ু।

নারকেল গুড়ের  নাড়ু

উপকরণঃ নারকেল ২ টি, খেজুরের গুড় ১/২ কেজি, এলাচ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ, তেজপাতা ১ টি, লবণ ১ চিমটি, দারুচিনির টুকরো কয়েকটি।
চিত্রঃনারকেল গুড়ের নাড়ু
নারকেল গুড়ের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে নারকেল কুরিয়ে নিন। এবার কোরানো নারকেল ও গুড় ভালো করে মিশিয়ে মিশিয়ে কড়াইয়ে দিন। কড়াই নন-স্টিকি হলে ভালো হয় তাহলে তলায় পোড়া লাগবে না। দারুচিনি, তেজপাতা, এলাচ গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে দিন। এরপর কড়াইয়ে ভাজতে থাকুন। সারাক্ষণ নাড়ুন যাতে তলায় লেগে না যায়। ভাজতে ভাজতে নরম ও আঠালো হয়ে গেলে চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে নিন।
তারপর সহনীয় গরম থাকতে থাকতে হাতের তালুতে অল্প ঘি মেখে নারিকেল নিয়ে ছোট বলের মতো গোল আকৃতি দিন। ঠাণ্ডা হলে সংরক্ষণ করুন মুখবন্ধ পাত্রে। চাইলে চাল ভাজার মিহি গুঁড়োতে গড়িয়ে রাখতে পারেন।

চিড়ার নাড়ু

উপকরণঃ  চিড়া ১/২ কেজি, গুড় পরিমানমতো, এলাচ গুঁড়া ৫টি, ঘি ১ টেবিল চামচ।
চিত্রঃচিড়ার নাড়ু
চিড়ার নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ চিড়া ভেজে নিন। গুড়ে সিকি কাপ পরিমাণ পানি ও ঘি দিয়ে চুলায় দিন। ফুটে উঠলে এলাচ গুঁড়া ছেড়ে নাড়ুন। ঘন হলে চিড়া দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চুলা থেকে নামিয়ে হাতে ঘি মেখে দ্রুত ঠাণ্ডা হওয়ার আগেই গোলাকার করে নাড়ু তৈরি করুন।

তিলের নাড়ু

উপকরণঃ তিল ১ কাপ, গুড় ১ কাপ, পানি ও বাদাম ভাজা।
চিত্রঃতিলের নাড়ু
তিলের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ তিল হাল্কা ভেজে নিন। এরপর চুলায় পানি ও গুড় নাড়ুন। ঘন হয়ে এলে তিল ও বাদাম দিয়ে গরম থাকতে থাকতে খামি হাতে নিয়ে গোল গোল করে নাড়ু বানিয়ে নিন।

চালের নাড়ু

উপকরণঃ চাল ১ কাপ, গুড় দেড় কাপ, নারকেল কোরানো ১ কাপ ও তিল আধা কাপ।
চিত্রঃচালের নাড়ু
চালের নাড়ু

প্রস্তুত প্রণালীঃ চাল ১ চিমটি লবণ ও পানি দিয়ে মাখিয়ে খোলাতে আধা ভাজা করে গুঁড়া করে নিন। তিলও ভেজে নিতে হবে। গুড় সামান্য পানি দিয়ে চুলায় দিয়ে জ্বাল দিন। গলে এলে চালের গুঁড়া, নারকেল ও তিল একসঙ্গে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে পিঁড়িতে ঢেলে তাড়াতাড়ি গরম গরম নাড়ু বানিয়ে নিন। যদি ঠান্ডা হয়ে যায়, তবে আবার একটু গরম করে নিতে হবে।

মোতিচুর লাড্ডু

উপকরণঃ বেসন ১ কাপ, বেকিং পাউডার ১ চা চামচ, পানি কাপ, চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপ, ঘি ১ টে: চামচ, ফুড কালার পছন্দমতো, তেল ভাজার জন্য।
চিত্রঃমোতিচুর লাড্ডু
মোতিচুর লাড্ডু

প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে বেসন আর বেকিং পাউডার ভাল করে মিশিয়ে ৩/৪ কাপ পানি দিয়ে বেসনটা গুলে ভালো করে মিক্স করে গোলাটা ১ ঘন্টা ঢেকে রাখুন। এরপর গোলা টা ভাগ ভাগ করে একেক ভাগে একেক ফুড কালার মিশান।
এবার একটি প্যানে তেল গরম করে বড়ফুটো ওয়ালা ঝাঁঝরি চামচ (হাতা) এর উপর বেসনের গোলা টা অল্প অল্প করে ঢেলে কম আঁচে ডুবো তেলে বুন্দিয়া গুলো ভেজে তুলুন। এভাবে সব গুলো বুন্দিয়া ভেজে তুলে রাখুন।
এবার আরেকটি প্যানে এক কাপ চিনি ও এক কাপ পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে ঘন সিরা করে নিন। সিরা খুব ঘন হয়ে এলে ভাজা বুন্দিয়া গুলো সিরায় দিয়ে সাথে এক টে: চামচ ঘি দিন এবং ভালো করে নেড়ে চেড়ে নামিয়ে বুন্দিয়া গুলো একটি প্লেটে ছড়িয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর বুন্দিয়া গুলো হালকা গরম থাকতে হাতে সামান্য ঘি লাগিয়ে বুন্দিয়া গুলো মুঠো করে নিয়ে চেপে চেপে গোল লাড্ডু বানিয়ে নিন।

বেসনের লাড্ডু

উপকরণঃ বেসন ৪ কাপ, ঘি ১ কাপ, পাউডার চিনি ২ কাপ, কাজু বাদাম কুচি ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ।
চিত্রঃবেসনের লাড্ডু
বেসনের লাড্ডু

প্রস্তুত প্রণালীঃ কড়াইয়ে ঘি গরম করে সবটুকু বেসন ঢেলে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। খেয়াল রাখতে হবে, যেন কড়াইয়ের নিচে পুড়ে না যায়। মৃদু আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভাজার পর বাদাম আর এলাচ গুঁড়া দিতে হবে। সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা হলে তাতে চিনি ছিটিয়ে মেখে নিলে মিশ্রণটি বেশ আঠালো হয়ে উঠবে। এবার হাতে অল্প একটু তেল মেখে ছোট ছোট বল বানিয়ে লাড্ডুর আকার দিন।

**নাড়ু সংরক্ষনের টিপসঃ
  • নাড়ুগুলো চাইলে চাল ভাজার মিহি গুঁড়োতে গড়িয়ে রাখতে পারেন।
  • নাড়ু ঠাণ্ডা হলে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখলে নাড়ু ভালো থাকবে দীর্ঘদিন। অথবা সংরক্ষণ করুন মুখবন্ধ পাত্রে।
  • নাড়ু গোল করার সময় হাতে ঘি মাখিয়ে নিন তাড়াতাড়ি হবে এবং হাতে লেগে যাবে না।
  • গুড় জ্বাল দেয়ার সময় কম জ্বাল দিন আর খেয়াল রাখুন যাতে জ্বাল বেশি হয়ে তিতা না হয়ে যায়।
  • প্রতিটি নাড়ু গরম গরম বানানোর সুবিধার জন্য একটি পাত্রে ঠাণ্ডা পানি নিয়ে মাঝেমধ্যে হাত ভিজিয়ে আবার নাড়ু বানাতে হবে। 
  • নাড়ু বানানোর পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত করতে হবে।

নাড়ু সংরক্ষন

নাড়ু সংরক্ষন

নারকেলের তৈরী যে কোন খাবারই কিছুদিন পর একটি তেলটা গন্ধ। পূজা বা যেকোন সময় নাড়ু বানালে সেটা সাথে সাথে না খেয়ে কিছুদিন সংরক্ষন করা হয়। তাই বেশি দিন সংরক্ষণের জন্য চিনির নাড়ু থেকে গুড়ের তৈরী নাড়ুই বেশি উপযোগী।
চিত্রঃনাড়ু সংরক্ষন
নাড়ু সংরক্ষন
সংরক্ষনের জন্য-
* একটি এয়ার টাইট কন্টেইনারে করে আপনি নারকেলের নাড়ু বা সন্দেশ ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।
* বানানোর সময় একটু ছোট এলাচ,কয়েক টুকরো দারচিনি দিয়ে নাড়ুর পাকটা দিলে তেলটা গন্ধ দেরীতে হবে।
* চিনির নাড়ু বা সন্দেশ এর মিশ্রনে যে দুধটা দেয়া হয় সংরক্ষণ করে দ্রুত খেয়ে নেয়া স্বাস্থ্যসম্মত।
* নাড়ু তৈরির সময় যদি জ্বালটা সঠিক দিতে পারেন এবং এক চিমটি কর্পুর গুড়ো মিশিয়ে দিলেও নাড়ু অনেক দিন ভালো থাকে।
* যদি খুব বেশি দিন সংরক্ষণ করতেই চান তবে কড়া পাকের গুড়ের নাড়ু তৈরী করুন। এটি এক-দেড় মাস ভালো থাকবে।

পূজার নাড়ু

পূজার নাড়ু

পূজায় খাবার-দাবারের তালিকায় নাড়ু থাকবে না, তাই কি হয়! নাড়ু ছাড়া পূজার খাবার অসম্পূর্ণই থেকে যায়। মিষ্টি ও মুখরোচক এই খাবারগুলো সবার কাছেই সমান প্রিয়। প্রাচীন কালে গ্রামে-গঞ্জে বাঙ্গালির উত্সবের খাবারের একটি জনপ্রিয় আইটেম ছিলো বিভিন্ন রকম নাড়ু। তাই আজ থাকলো পূজার নাড়ু তৈরির রেসিপি।
চিত্রঃনারকেলের সাদা রঙের নাড়ু
নারকেলের সাদা রঙের নাড়ু

নারকেলের সাদা রঙের নাড়ু

উপকরণঃ দেশি ঘি ২ টেবিল চামচ, নারকেল কোরানো ২ কাপ, কন্ডেন্সড মিল্ক ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, তরল দুধ ২ কাপ, এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, সাজানোর জন্য বাদাম।

প্রণালিঃ প্যানে ঘি গরম করে  কোরানো নারকেল দিয়ে ১ মিনিট ভাজুন। কন্ডেন্সড মিল্ক আর তরল দুধ দিয়ে জ্বাল দিন প্রায় ২০ মিনিটের মতো। তারপর এলাচ গুড়ো এবং চিনি দিয়ে নাড়ুন একদম আঠা আঠা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। চুলা থেকে নামিয়ে হালকা ঠাণ্ডা হলে হাত ভিজিয়ে দ্রুত করে ছোট বলের মতো গোল আকার দিয়ে নারিকেলের নাড়ু তৈরি করুন। বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।

তিলের নাড়ু
চিত্রঃতিলের নাড়ু
তিলের নাড়ু

উপকরণঃ তিল ২ কাপ,  গুড় ২কাপ, ঘি ১ কাপ।

প্রণালীঃ প্রথমে তিল টেলে(তেল ছাড়া ভাজা) নিয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার চুলায় একটি পাত্রে গুড় জ্বাল দিন। গুড় গলে গেলে তিল দিয়ে নাড়তে থাকুন।
গুড়ের সাথে তিল মিলে শক্ত হয়ে এলে নামিয়ে নিন। একটি পাত্রে তিলের মিশ্রণ ঢেলে গরম থাকতেই ঘি দিয়ে মিশিয়ে নিন। পছন্দ মতো আকারে নাড়ু তৈরি করুন। 

অলিভ অয়েলের ধরণ এবং বিভিন্ন উপকারী ব্যবহার

অলিভ অয়েলের ধরণ এবং বিভিন্ন উপকারী ব্যবহার

মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল যা আরবিতে জয়তুন নামে পরিচিত। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত। গ্রীক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণ এই জলপাইয়ের তেলের মধ্য রয়েছে। এই তেলে এমন উপাদান রয়েছে, যেগুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখে। অলিভ অয়েল ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাটি এসিডে ভরপুর তাই শুধু হার্টের জন্য নয় পুরো মানব দেহের জন্যই উপকারী। এটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও নিরাপদ। এটি পেটের জন্য খুব ভালো, শরীরে এসিড কমায়, লিভার পরিষ্কার করে। 
চিত্রঃঅলিভ অয়েলের ধরণ ও ব্যবহার
অলিভ অয়েলের ধরণ ও ব্যবহার
অনেক দেশে অলিভ অয়েল সাধারণত কেবল সালাদের তেল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। বহিরাগত সৌন্দর্য ছাড়াও অলিভ অয়েল আমাদের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য রক্ষায় অনেক বেশি উপকারী। দামে বেশি হলেও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বর্তমানে অনেকেই রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন বা করতে চান। এক্ষেত্রে অলিভ অয়েল সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা থাকা দরকার। কারণ, বিভিন্ন ধরণের অলিভ অয়েল আছে। এর স্বাদও ভিন্ন ভিন্ন। ব্যবহারও আলাদা। আসুন জেনে নিই অলিভ অয়েল কত রকমের হয়, কোন অলিভ অয়েল কী ধরনের রান্নার জন্য উপযুক্ত।

অলিভ অয়েলের ধরনঃ

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েনঃ
সবচেয়ে উচ্চ মানের অলিভ অয়েল হলো এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। স্যালাড ড্রেসিং হিসেবে এই অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। সবজি রান্না করার জন্যও এই অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। মাখনের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও চলতে পারে এই অলিভ অয়েল।

ক্লাসিক অলিভ অয়েলঃ
যদি আপনি ভূমধ্যসাগরীয় বা কন্টিনেন্টাল রান্না করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনার জন্য সেরা ক্লাসিক অলিভ অয়েল। হালকা ভারতীয় রান্নাতেও অন্য স্বাদ নিয়ে আসে এই তেল। পাস্তা, স্টার-ফ্রায়েড ভেজিটেবল বা রাইস তৈরির কাজে ক্লাসিক অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এই অলিভ অয়েল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ভালো কাজ করে। ফলে চুল ও ত্বকের জন্য ভাল এই অলিভ অয়েল। বাচ্চাদের মাসাজ করার জন্যও এই তেল উপকারি।

অলিভ পোমেস অয়েলঃ
এই অলিভ অয়েলের নিউট্রাল গন্ধ ও রঙের জন্য বাঙালি রান্নার পক্ষে আদর্শ। উচ্চ স্ফুটনাঙ্কের কারণে ডিপ ফ্রাইং-এর জন্য খুব ভালো এই তেল। পোলাও, পরোটা এমনকি পাকোড়াও তৈরি করতে পারেন এই তেল দিয়ে।

লাইট ফ্লেভার অলিভ অয়েলঃ
হালকা রং ও মৃদু গন্ধের জন্য সহজেই চেনা যায় এই অলিভ অয়েল। প্রতি দিনের রান্নায় অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন এই তেল। রোজকার ভারতীয় রান্না বা কন্টিনেন্টাল রান্না, যে কোনো রকম পদই তৈরি করতে পারেন লাইট ফ্লেভার অলিভ অয়েল দিয়ে। ভাজি, রান্না করা, রোস্ট বা বেকিং সব কাজেই ব্যবহার করা যায় এই অলিভ অয়েল।

অলিভ অয়েলের যত গুণগত ব্যবহারঃ

১। কোলেস্টরেল কমাতেও জলপাই তেল বিশেষ উপকার করে থাকে। আর তাই যাদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই।

২। পায়ের যত্নে ১ চামচ লবণ নিয়ে তাতে পরিমাণ মত অলিভ অয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন ও পায়ে ম্যাসাজ করুন। পা পরিষ্কার হবে সাথে সাথে পায়ে আরামবোধ ও হবে।

৩। সকালে নাস্তার আগে ২ চামচ অলিভ ওয়েল খেলে হজম শক্তি বাড়বে। নিয়মিত ব্যবহারে ওজন কমতে সহায়তা করে।

৪। শেভ করতে গেলেন আর দেখলেন শেভিং ক্রিম শেষ তখন কি হবে? শেভিং ক্রিমের বদলে ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল। মসৃণ শেভ হবে এবং ত্বকও রুক্ষ হবে না।

৫। শুষ্ক ত্বকে মেকআপের সময় ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে ১/২ ফোঁটা অলিভ অয়েল মুখে মেখে নিন। এতে মেকআপ বসবে ভালো এবং মেকআপের পর ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।

৬। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে হাতে ও পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। এতে পা ফাঁটা দূর হবে এবং হাত পা নরম এবং সতেজ থাকবে।

৭। অলিভ অয়েল হালকা গরম করে নখে দিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে নখ শক্ত হয়ে এবং নখ ভাঙ্গা রোধ হবে।

৮। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আপনার রিং ফিঙ্গার দিয়ে আলতো হাতে অলিভ অয়েল বুলিয়ে দিন। অতিরিক্ত তেল নরম টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে পারেন। চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর হবে।

৯। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন, তারপর মোজা পরে ঘুমান। পা ফাটার সমস্যা দূর হবে।

১০। যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দিয়ে বের হওয়া যায় তাহলে সানট্যান থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।

১১। অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ এক সপ্তাহ ব্রণ প্রতিরোধ হবে।

১২। প্রতিদিন সকালে কিছু খাওয়ার আগে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খেলে, কয়েকদিনের মধ্যেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান হবে।

১৩। মাশকারার বদলে চোখের পাপড়ি, ভ্রূতে অলিভ অয়েল লাগান, আর বাড়িয়ে তুলুন আপনার চোখের সৌন্দর্য।

১৪। মাঝে মাঝে দেখা যায় বাড়ির কোন দরজা খুলতে বা বন্ধ করতে গেলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়ার করে। সে ক্ষেত্রে সংযোগ কব্জাগুলোতে কিছু অলিভ অয়েল দিয়ে দিন। আর শব্দ করবে না। লোহার যন্ত্রপাতি বা গ্রিলের মরিচা প্রতিরোধ করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

১৫। ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা মুখ পরিষ্কারের স্কার্ব হিসাবে ব্যবহার করুন।

১৬। বাচ্চাদের ম্যাসাজের জন্য অলিভ অয়েলকে সেরা বলে ধরা হয়। শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ অয়েল মাখিয়ে দিন।

১৭। এক কাপ অলিভ অয়েলের সঙ্গে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। আসবাবপত্র পরিষ্কারের কাজে একে ব্যবহার করুন।

১৮। হাতের কালশিটে ভাব দূর করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

১৯। ওয়াক্সিংয়ের পর হাত ও পায়ের চিটচিটে ভাব দূর করতে অলিভ অয়েল মাখুন।

২০। চুলকে স্থির করে রাখতে চাইলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন চুলে। মনে হবে যেন জেল দিয়েছেন।

২১। মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিন। এটি পরে লিপজেলের কাজ করবে।

২২। চুলের কন্ডিশনার হিসাবে অলিভ অয়েল দারুণ কাজে দেয়। চুলে মেখে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন।

২৩। ব্রাশগুলোকে চকচকে রাখতে এগুলো ধুয়ে অলিভ অয়েল পলিশ করুন।

২৪। মেকআপ মুছতে রিমুভার হিসেবে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

২৫। দাঁতের যত্নেও দারুণ এক উপাদান অলিভ অয়েল ।

অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার!

অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার!

মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জলপাইয়ের তেল বা অলিভ অয়েল যা আরবিতে জয়তুন নামে পরিচিত। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত। গ্রীক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণ এই জলপাইয়ের তেলের মধ্য রয়েছে। অলিভ অয়েল এর উপকারিতা বহুদিন ধরেই বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত। ত্বক ও চুলের ব্যবহার ছাড়াও দৈনন্দিন নানা কাজেও অলিভ অয়েল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন জেনে নেয়া যাক অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার।
চিত্রঃঅলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার
অলিভ অয়েলের বিভিন্ন গুনাগুন ও ব্যবহার
শিশুদের ত্বকের যত্নেঃ
জলপাই তেল ত্বকের যত্নে ভালো কাজ করে। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ। শিশুদের নিতম্ব থেকে র‌্যাশ দূর করতে সামান্য অলিভ ওয়েল মাখিয়ে দিন। এছাড়া যাঁদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নির্দ্বিধায় এ তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। অলিভ অয়েল অতিরিক্ত শুষ্ক ও ছোপ ছোপ ত্বক কোমল ও মসৃণ করে।

বলিরেখা দূর করতেঃ
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কপালে, চোখের পাশে ও নিচে চামড়ায় হালকা ভাঁজ দেখা দেয়। এই বলিরেখা দূর করতে ২ চামচ অলিভ অয়েলের সাথে সামান্য এলোভেরা অয়েল মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে তা চলে যাবে।

ত্বকে ময়েশ্চারাইজ আনতেঃ
হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরে তুলাতে সামান্য অলিভ অয়েল লাগিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ১০-১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে তা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এবার শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন। গোসল করার পর সামান্য পানির সাথে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে সারা শরীরে ম্যাসেজ করলে কিন্তু দারুণ ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

চুলের সৌন্দর্যেঃ
চুলের যত্নে অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। একটি ডিম ও ২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ভালমতো ফেটিয়ে নিন। তারপর পেস্টটি আপনার চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

হেয়ার কন্ডিশনারঃ
চুলের কন্ডিশনার হিসাবে অলিভ অয়েল দারুণ কাজে দেয়। চুলে মেখে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন। চুলকে স্থির করে রাখতে চাইলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন চুলে। মনে হবে যেন জেল দিয়েছেন।

মেকআপের সময়ঃ
শুষ্ক ত্বকে মেকআপের সময় ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে ১/২ ফোঁটা অলিভ ওয়েল মুখে মেখে নিন। এতে মেকআপ বসবে ভালো এবং মেকআপের পর ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।

মেকআপ পরিষ্কার করতে(রিমুভার হিসেবে)ঃ
মুখ থেকে মেকআপ তুলতে রীতিমতো ত্বকের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু অলিভ অয়েল দিয়ে খুব সহজেই মুখের সমস্ত মেকআপ তুলে নেওয়া যায়। মেকআপ তোলার সময় কটন বল নিয়ে তাতে সামান্য অলিভ অয়েল নিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করুন, দেখবেন সমস্ত মেকআপ উঠে যাবে।

স্ক্রাবার হিসাবেঃ
ওটমিল, সামান্য ক্রিমের সঙ্গে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে তা মুখ পরিষ্কারের স্কার্ব হিসাবে ব্যবহার করুন।

লিপজেলের কাজেঃ
লিপবাম, ভেসলিন এর বদলে ঠোঁটে অলিভ অয়েলও ব্যবহার করা যায়। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার করে তারপর অলিভ ওয়েল লাগান। লিপস্টিক লাগানোর আগেও সামান্য অলিভ অয়েল দিয়ে নিলে ঠোঁট নরম থাকবে।
মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোমের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি কৌটায় রেখে দিন। এটি পরে লিপজেলের কাজ করবে।

ঠোঁটের স্ক্রাবার হিসেবেঃ
ঠোঁটে মরা চামড়া জমে কালচে দেখায়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অলিভ অয়েল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে ঘষুন। দূর হবে মরা চামড়া।

স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেঃ
ডার্মাটোলজিস্টগণ ত্বকের ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক-এ অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ সব ফাটাদাগে নিয়মিত ম্যাসাজ করলে দাগগুলো ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যায়। শুরু থেকেই রাতে শোবার আগে ও গোসলের পর পেট ওথাই-এ অলিভ অয়েল ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যা অ্যান্টি স্ট্রেচ মার্ক ক্রিম হিসেবে কাজ করবে।

সান প্রোটেকশনঃ
অভিল অয়েলে ভিটামিন এ এবং ই আছে সেই সঙ্গে ৩ রকমের antioxidants আছে, যা আপানাকে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। তাই যদি বাইরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের প্রলেপ দিয়ে বের হন তবে সান্ টান থেকে অনেকটাই মুক্তি লাভ করবেন।

ব্রণ প্রতিরোধকঃ
শুনে হয়ত অবাক হবেন ব্রণের চিকিৎসায় তেলের ব্যবহার। কিন্তু অলিভ অয়েল ব্রণের বংশ ধ্বংস করার জন্য উপকারী। ৪ টেবিল চামচ লবণের সাথে ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপর সেই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ করুন। আপনি অবশ্যই পরিবর্তন দেখতে পারবেন। লবণ exfoliation করে pore পরিষ্কার করে আর অলিভ অয়েল মুখের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

পায়ের যত্নেঃ
পায়ের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার অতুলনীয়। পায়ের যত্নে ১ চামচ লবণ নিয়ে তাতে পরিমাণমতো অলিভ ওয়েল মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে পায়ে ম্যাসাজ করুন। ভালো ফল পাবেন।

নখ ভাঙ্গা রোধেঃ
যাদের নখ বারবার ভেঙে যায় তারা নখের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েল কুসুম গরম করে নখ ডুবিয়ে রাখুন। সপ্তাহে একবার এটি করলে নখ শক্ত হবে।

পা ফাটা সমস্যার সমাধানঃ
পায়ের দুরবস্থার কারণে কারও সামনে পা বের করতে বিব্রত হচ্ছেন? রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন, তারপর মোজা পরে ঘুমান। সকালে নরম তুলতুলে পায়ে পছন্দের স্যান্ডেল গলিয়ে চলে যান গন্তব্যস্থলে।

অলিভ অয়েল বাথঃ
শীতকালে যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে তাদের জন্য খুবই কার্যকরী অলিভ অয়েল বাথ। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। বডি লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। গোসলের পর অনুভব করুন তুলতুলে নরম, সিল্কি ত্বকের স্পর্শ অথবা আপনি যদি গোসলের আগে অভিল অয়েল দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করে নেন তাহলেও সেই একই ফলাফল পাবেন।

ডার্ক সার্কেল দূর করতেঃ
চোখের নিচে কালি পড়লে রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে দূর হবে চোখের নিচের কালো দাগ।

ওজন কমাতেঃ
শরীরের ওজন কমাতে অলিভ অয়েল খেতে পারেন। এছাড়া সকালে নাস্তার আগে ২ চামচ অলিভ ওয়েল খেয়ে নিন, এতে হজম শক্তি বাড়বে।

কানের সমস্যায় জলপাই তেলঃ
যাদের কানের সমস্যায় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল বিশেষ উপকার করে থাকে। কানের মধ্যে চুলকানি এ গন্ধ হওয়া এমন বেশ কিছু নর্মাল সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। কটন বার অলিভ ওয়েলে ভিজিয়ে খুব সাবধানে কানের মধ্যে দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে কোন মতেই যেনো কানের মধ্যে কাঠির চাপ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে কানের চুলকানি কমে আসবে। তবে কানে বড় কোন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোলেস্টরেল কমাতেঃ
কোলেস্টরেল কমাতেও জলপাই তেল বিশেষ উপকার করে থাকে। আর তাই যাদের কোলস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাঁদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধেঃ
পেট পরিষ্কার না থাকার কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে ব্রণ দেখা দেয়। তাই ব্রণের সমসসা সমাধানের সাথে সাথে পেটের সমস্যাও সমাধান করতে হবে আমাদের। প্রতিদিন সকালে কিছু খাওয়ার আগে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খাবেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার সমস্যার সমাধান হবে।

শেভ করার কাজেঃ
শেভ করতে গেলেন আর দেখলেন শেভিং ক্রিম শেষ তখন কি হবে? শেভিং ক্রিমের বদলে ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল। মসৃণ শেভ হবে এবং ত্বকও রুক্ষ হবে না।

মরিচা রোধেঃ
লোহার যন্ত্রপাতি বা গ্রিলের মরিচা প্রতিরোধ করতে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।

স্টেইনলেস স্টিল চকচকে করতেঃ
স্টেইনলেস স্টিলের থালা বাসন চকচকে করতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। স্টেইনলেস স্টিলের যেই অংশে দাগ পরে গিয়েছে সেই স্থানে কিছুক্ষন অলিভ অয়েল ঘষে নিলে অনায়াসেই দাগ উঠে যায়।

আসবাবপত্র পলিশ করতেঃ
এক কাপ অলিভ ওয়েলের সঙ্গে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। আসবাবপত্র পরিষ্কারের কাজে একে ব্যবহার করুন।

নাক ডাকা বন্ধ করতেঃ
অলিভ অয়েল নাক ডাকা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক চুমুক অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। এটি আপনার গলার পেশীকে পিচ্ছিল করে থাকে এবং নাক ডাকা বন্ধ করে দেয়।

পোষা প্রাণীর যত্নে ব্যবহারেঃ
পোষা প্রাণীর গোসলের পানিতে ১/৪ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। তাহলে পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বক ভালো থাকবে।

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি!

নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! নারকেল তেল দিয়েই দূর করুন খুশকি! শীত, গরম বা বর্ষাকালেও খুশকির যন্ত্রনা যেন মেটে না। পার্লারের আহাম...

Our Popular Posts